আমরা কি প্রকৃত মানুষ হতে পেরেছি



আধুনিক জাতি যারা শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে কিন্তু সুশিক্ষা কতটা বিকশিত করতে পারছে সেটা প্রশ্নই রয়ে যায় । কেননা সমাজের যত সুশিক্ষিত উচ্চপদস্থ ব্যক্তি রয়েছে তারা নানা ধরনের অপকর্ম করে যেটা কিনা আমাদের জাতীয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিজেই স্বীকার করেছিলেন। শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছি কিন্তু সুশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছি না । এখন কেমন জানি সততা,  সত্যবাদিতা, নম্রতা, ভদ্রতা এ ধরনের গুণের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে । সমাজে সৎ মানুষেরা স্বাভাবিক ভাবে টিকে থাকতে পারছে না। কিন্তু যারা উপরে উল্লেখিত গুণগুলোকে লালন পালন করে না তারা দিব্যি সুখে শান্তিতে বসবাস করছে।  এখন আমরা ভদ্র লোককে বোকা লোক বলতে ভালোবাসি।

আজকে আমি আমার একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করব।  যেটা আমাকে অনেকটাই কষ্ট দিয়েছে।  এটা এখানে লিখে রাখছি হয়তো কোন একদিন কেউ আমার এই পোস্টটি পড়বে এবং এখান থেকে নিজেকে শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করবে।  অর্থাৎ আমি যেই অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছে সেই সম্পর্কে বলছি।  এ সমাজে কারো উপকার করতে গেলেও যে অনেক সময় বকা খেতে হয় এটা আমার জানা ছিল না।  দেখুন আমরা সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে অনেক সময় প্রতিবাদের ঝড়  তুলি যে এত হাজার হাজার মানুষ রাস্তাঘাটে থাকলেও কেন তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেনা ।এ ব্যাপারে আমরা টেলিভিশন মিডিয়ায় এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছি।  এবং সে মতামত গুলো সবগুলো সত্য।  কেউ বলেছে পুলিশের ঝামেলা কেউ পছন্দ করে না এজন্যই কেউ কাউকে সাহায্য করে না এ ধরনের হাজার হাজার মতবাদ রয়েছে।

 আবার কেউ বলে নিজের খেয়ে কেন অন্যের ঝামেলা ঘাড়ে নিতে যাবে।  তাইতো নিজের খেয়ে নিজের পরে কেন অন্যের ঝামেলা নিজের ঘাড়ে নিতে যাবো।  আসলে আমাদের নবীজি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তিনি কি আমাদের এই শিক্ষাই দিয়েছিলেন?  যুগে যুগে যত মনীষীরা চলে গিয়েছেন তারা কি কখনো বলেছিলেন আমাদেরকে এই কাজগুলো করার জন্য।  না বলেন নি।  তারা কি কখনো বলেছিল যে তোমার উপকার করবে তাকে তুমি তিরস্কার করবেন।

 আজকে আমি চলতি পথে হঠাৎ করে এক ভদ্রলোকের পকেট থেকে একটি 100 টাকার নোট পড়ে যেতে দেখলাম।   আসলে টাকাটা মাটিতে পড়ে যায় নি।  প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পকেট থেকে বেরিয়ে পড়ে যাবার উপক্রম হয়ে আছে।  তো এটা দেখে আমি স্বাভাবিক ভাবেই উনাকে বলে বসলাম যে ভাই আপনার পকেট থেকে টাকা পড়ছে।  কিন্তু ভদ্রলোক পকেটে হাত না দিয়ে অথবা ডানে বামে না দেখে আমাকে একটা গালি দিয়ে বসলেন। আমার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। পরে আমি সঙ্গে সঙ্গেই ওই লোককে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলাম যে দেখুন টাকাটা পড়ে যাচ্ছিল বিধায় আমি আপনাকে বলেছি ।  আমি কি এটা অন্যায় করেছি।  আমি আপনার উপকার করতে চাইলাম আর আপনি আমাকে বকা দিলেন।  লোকটি হয়তো পরক্ষণেই তার ভুল বুঝতে পেরেছে।  এবং আমাকে ধন্যবাদ বলেছে কিন্তু সরি বলে নি।

 সরি বলুক আর না বলুক তাতে আমার কোন সমস্যা নেই।  আমার সমস্যা হলো এখানে যে কিভাবে একটা লোক আরেকটা লোককে চেনে না জানে না কখনো দেখিনি অথচ বকা দিয়ে বসলো।  আমরা কোন সমাজে বসবাস করছি।  বকা দেওয়া কি আসলে কোন স্মার্টনেস?  যদি বকা দেওয়া কোন স্মার্ট নেস হয় তবে সেটি কতজন গ্রহণ করতে চায়? জানিনা আমি আসলে কি বলতে চাচ্ছি?

 লোকটা আমাকে বকা দিয়েছে কিন্তু আমি একটু কষ্ট  পাইনি।  আমার এটা ভেবে ভালো লাগছে যে আমি তো একটা ভাল কাজ করেছি।  হয়তো লোকটি চলতে পথে  আমার কথা ভাববে।  বলবে ইস লোকটাকে আমি শুধু শুধু বকা দিয়েছি।  কিন্তু আমাকে আর সে কোনদিন খুঁজে পাবে না সরি বলার জন্য। আমি তো এটাকে আমার ডায়েরির পাতায় লিখে রাখলাম অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিলাম।  হয়তো অনেকেই এই লেখাটা পড়বেন এবং ভাববেন আসলে লোকটা কাজটি ভালো করেনি।

 দেখুন আমরা অনেক সময় এভাবে জেনে শুনে অথবা না জেনে না শুনে কত জনকেই না বকা দিয়ে বসি। কারো কারো এরকম স্বভাবে রয়েছে যে কথায় কথায় বকা দেয়।  সে কি কখনো ভাবে না যে আমার এই স্বভাবগত আচরণের কারণে অনেকেই মনে কষ্ট পায়।  আমি হয়তো এটাকে কিছুই মনে করছি না কিন্তু  কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা ছোট ছোট অপরাধগুলো কেউ সহ্য করতে পারে না ।  অথবা এমনও তো হতে পারে যে সে যে ধরনের আচরন করে তাতে তার আশেপাশের লোকেরা তাকে মোটেও ভালোবাসে না।  সে ভাবছে যে সবাই আমাকে ভয় পায়।  এটা কোন অর্জন নয়।

ভদ্রলোক আমাকে বকা দেওয়ার পর আমি চাইলে তার সাথে ঝগড়া লেগে যেতে পারতাম। কিন্তু পরক্ষনে ভাবলাম যে আমি তো তার উপকার করতে চেয়েছি,  কেন আমি তার সাথে ঝগড়া করবো। আমি যে মনের অজান্তে তাকে উপকার করতে চেয়েছি সেই অজানা ইচ্ছা টির প্রকৃত উদ্দেশ্যটাই বিকৃত হয়ে যাবে, যদি আমি তার সাথে ঝগড়া করি। এই অপদার্থ সরল মানুষের কথাগুলো পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।


আমরা কি প্রকৃত মানুষ হতে পেরেছি আমরা কি প্রকৃত মানুষ হতে পেরেছি Reviewed by shorolmanush on August 13, 2019 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.