লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া খুঁজছেন? জেনে নিন ৬টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ!

 


প্রতিদিনই সারা পৃথিবীজুড়ে তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার স্টার্টআপ কোম্পানি, পরবর্তীতে নিজেদের গল্প বলার জন্য টিঁকে থাকতে পারছে তার মধ্যে মুষ্টিমেয় কয়েকটি। সঠিক সময়ে সঠিক আইডিয়া কাজে লাগিয়ে যারা ব্যবসা করতে পারছেন, সফল হচ্ছেন সেই উদ্যোগপতিরাই।

নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে সবথেকে কঠিন চ্যালেঞ্জই হল নিজের জন্য উপযোগী ব্যবসার আইডিয়াটিকে চিহ্নিত করা। নতুন ব্যবসার আইডিয়া চাই ?আপনার চারপাশেই রয়েছে হাজারো অল্প টাকায় ভাল বিজনেস আইডিয়া, কিন্তু এর মধ্যে আপনার জন্য  সবথেকে উপযুক্ত কোনটি? কীভাবে বেছে নেবেন আপনার ব্যবসার ক্ষেত্র? সেই প্রশ্নেরই আজ উত্তর খুঁজব আমরা।

#১ আপনার জন্য উপযুক্ত ব্যবসার ক্ষেত্রটি চিহ্নিত করুন

আপনার জন্য কোন ব্যবসার ক্ষেত্রটি সবথেকে বেশি উপযুক্ত প্রথমেই সেটিকে চিহ্নিত করতে হবে। নতুন ব্যবসা পরিকল্পনা করার প্রথম ধাপ হবে নিজের জন্য উপযুক্ত ব্যবসার ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিত করা। আগ্রহ ও দক্ষতা এই দুটি বিষয়কে চিহ্নিত করতে পারলেই পাওয়া যাবে এর উত্তর। কয়েকটি সহজ ধাপের মাধ্যমে নিজের আগ্রহ ও দক্ষতাকে চিহ্নিত করা সম্ভব।

১. ভাললাগা ও আকঙ্ক্ষাকে চিহ্নিত করুন

আপনি যে ক্ষেত্রটিতে ব্যবসা করবেন সেই বিষয়ে আপনার গভীর আগ্রহ থাকা আবশ্যিক। আগ্রহ ও ভাললাগা না থাকলে স্টার্টআপ ব্যবসা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব, অসম্ভব সফল হওয়াও। কোনও বিষয়ে আপনার গভীর আগ্রহ না থাকলে সে বিষয়ে আপনার দক্ষতা বৃদ্ধিও সম্ভব না, অভাব হবে উদ্ভবনী চিন্তারও। তাই প্রথমেই ব্যবসা আইডিয়া না হাতড়ে চিহ্নিত করুন আপনার আগ্রহের বিষয়গুলোকে।

অনেক সময়ে আমরা নিজেরাই নিজেদের ভাললাগাগুলো সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত থাকি না অথবা আমাদের অনেক কিছুই ভাললাগে তার মধ্যে কোনটি থেকে ব্যবসা করা যেতে পারে সে বিষয়ে আমাদের স্বচ্ছ ধারণার অভাব থাকে।

নিজের ভাললাগা ও আগ্রহকে চিহ্নিত করতে প্রথমেই নীচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখে ফেলুন।

আপনার ছোটবেলার কোন স্বপ্ন বা ইচ্ছাটি এখনও আপনাকে আকর্ষিত করে?

দিনের মধ্যে কোন সময়টি আপনি সব থেকে বেশি উপভোগ করেন, কোন সময়টি আপনার কাছে সবথেকে বেশি অর্থপূর্ণ মনে হয়?

অবসর সময়ে আপনি কী করতে ভালবাসেন, আপনার কি কোনও হবি রয়েছে? যদি থাকে তাহলে ভেবে দেখুন সেটি কি আপনি রোজ করতে চাইবেন?

কোন একটি কৃতিত্ব যা আপনাকে নিজের সম্পর্কে সব থেকে বেশি গর্বিত করবে?

আপনার জীবনের মূল মন্ত্র কী? আপনার যাপনের প্রধান ও সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ নীতি কোনগুলো এবং কেন?

আপনার মৃত্যুর পরও মানুষ আপনাকে যার জন্য মনে রাখবে এরকম একটি বিষয় যদি আপনাকে বেছে নিতে বলা হয় তাহলে সেটা কী হবে এবং কেন?

সময় নিয়ে ধৈর্য্য ধরে ভেবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন। এই উত্তরগুলোই আপনার আগ্রহের ক্ষেত্রটিকে খুঁজে পাওয়ার সূত্র দেবে।

২. কী আপনি সবথেকে সহজে করতে পারেন

আমরা সাধারণতঃ সেইগুলোই করতে ভালবাসি যা আমরা ভালভাবে করতে পারি অথবা উল্টোটা। ফলে এমন পাঁচটি জিনিস ভাবুন যা আপনি সহজেই করতে পারেন।

খুব বেশি জটিল করে ভাবার দরকার নেই। প্রথমেই যে পাঁচটি জিনিস মাথায় আসে লিখে ফেলুন। খুব সাধারণ উত্তর না দিয়ে নির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ করুন। যেমন আপনি হয়তো সহজে ভাল লিখতে পারেন, সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে লিখুন কী ধরণের লেখা আপনি সবথেকে সহজে লিখতে পারেন, সে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হোক বা রম্য রচনা।  

এই পাঁচটি জিনিসের মধ্যে যে কোনও কিছু থাকতে পারে,তা হতে পারে রান্না করা, বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান তৈরি, বন্ধুদের শাড়ি, পোশাক, গয়না বাছতে সাহায্য করা বা তাদের বিয়ের প্ল্যানিং।

ভেবে দেখবেন আপনি প্রতিদিনের জীবনে এই সব কাজগুলিই খুব সহজেই করে চলেন। এবং এতটাই সহজে করেন যে খুব আলাদা করে কাজ করছেন বলেও মনে হয় না।

৩. আপনার অবসর সময়ের মধ্যে সবথেকে বেশি সময়ে আপনি কোন কাজে ব্যয় করেন?

প্রথমেই কাজগুলিকে দু’ভাগে ভাগ করতে হবে, আপনাকে কোনটা বাধ্য হয়ে করতে হয় আর আপনি কোনটা নিজে থেকে করতে চান।

কখনও হতে পারে যে আপনি যা করতে চান এবং যেটা আপনাকে করতে হয় দুটো একই কাজ। যেমন ধরুন আপনাকে রান্না করতে হয় এবং আপনি রান্না করতেও চান, সেক্ষেত্রে রান্না করা আপনার দুটো ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

একইভাবে হয়তো ফাঁকা সময়ে আপনাকে ঘর গোছাতে হয়, কিন্তু আপনি সেটা করতে চান না। এরকম পাঁচটি কাজের তালিকা তৈরি করুন। পাশে লিখুন ‘করতে হয়’, ‘করতে চাই’ বা দুটোই।

৪. বন্ধুদের কাছে জানতে চান কোন পাঁচটি কাজ আপনি সবথেকে ভাল করেন

আপনার কাছের বন্ধু, যারা আপনাকে বেশ কিছুদিন ধরে চেনেন তাঁদের জিজ্ঞেস করুন কোন কোন কাজ আপনি সবথেকে ভাল করতে পারেন। আপনি নিজে হয়তো এমন অনেক দক্ষতাই চিহ্নিত করতে পারছেন না যা খুঁজতে আপনার বন্ধুরা আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

প্রশ্নটি শুনতে খানিক অদ্ভুত হলেও বন্ধুদের উত্তর আপনাকে নিজের দক্ষতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে অনেকটাই সাহায্য করবে।

৫. প্যাটার্ন লক্ষ্য করুন

উপরের এই সবকটি উত্তর থেকে কোনও প্যাটার্ন খুঁজে পাচ্ছেন কি না খেয়াল করুন। একই কাজ বা একই ধরনের কাজ কি বারবার উঠে এসেছে উত্তরগুলোতে। হয়তো আপনি নিজেই অবাক হবেন এই প্যাটার্ন লক্ষ্য করতে পারলে।

হতে পারে আপনার ও আপনার বন্ধুদের দেওয়া উত্তরের একাধিক জায়গায় এসেছে রান্না করার কথা অথবা লেখার কথা। এই প্যাটার্নটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন উত্তরগুলো থেকে।

৬. আগ্রহের তিনটি ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করুন

উপরের উত্তর ও প্যাটার্ন থেকে খুঁজে বের করুন আপনার সবথেকে বেশি আগ্রহের জায়গা কোন তিনটি। ওপরের উত্তরগুলো বিশ্লেষণ করলে সহজেই এই তিনটি বিষয়কে খুঁজে পাওয়া যাবে।

যতটা সম্ভব নির্দিষ্টভাবে আগ্রহের ক্ষেত্রগুলোকে লিখুন। যেমন কোনও বিশেষ ধরনের রান্না বা বিশেষ বিষয়ক লেখা।

#২ আপনার চারপাশে থাকা বাস্তব সমস্যাকে চিহ্নিত করুন

নিজের আগ্রহ ও দক্ষতা চিহ্নিত করার পরবর্তী পদক্ষেপ হল সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সমাধান করা যায় এমন সমস্যাকে চিহ্নিত করা। সবথেকে কার্যকরী হল আপনার নিজের জীবনে রয়েছে এমন সমস্যাকে চিহ্নিত করা।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্টার্টআপরা বা নতুন ব্যাবসায়ীরা ব্যর্থ হয় কারণ তারা বাস্তব সমস্যার কথা না ভেবে কাল্পনিক সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়। এমন সমস্যার সমাধান তারা করতে চায়, বাস্তবে সেই সমস্যাটাই নেই।

যেমন ধরুন আপনি খাবারের হোম ডেলিভারির ব্যবসার কথা ভাবছেন। কিন্তু আপনার এলাকায় যে সব বাড়ি রয়েছে তারা সকলেই নিজেদের রোজকার রান্না নিজেরাই করে নিতে স্বচ্ছন্দ। প্রতিদিনের রান্না করার সমস্যা তাদের নেই, তাহলে আপনার ব্যবসা চলবে না।

আবার ধরুন আপনি যে এলাকায় ব্যবসা করতে চাইছেন সেখানে ছাত্রছাত্রী,  কর্মরত মহিলা ও পুরুষদের বসবাস, সেক্ষেত্রে রোজকার রান্না করা তাদের কাছে একটা সমস্যা, আপনি আপনার ব্যবসার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন।

বিখ্যাত স্টার্টআপ বিশেষজ্ঞ ও মেন্টর পল গ্রাহামের মতে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্টার্টআপ ব্যবসাগুলোর সকলের ক্ষেত্রেই তিনটি বিষয় প্রযোজ্য, এগুলো প্রত্যেকটিই এমন জিনিস যা প্রতিষ্ঠাতাদের নিজেদের দরকার ছিল, যা তারা নিজেরা তৈরি করতে পারে, এবং আরও কিছু মানুষ মনে করেছিল যে সেই কাজটি করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মাইক্রোসফট্, অ্যাপেল, গুগল, ফেসবুক প্রতিটির জন্ম এভাবেই।

তাই ছোট ব্যবসা পরিকল্পনা করতে প্রথমেই ভাবুন আপনার কি দরকার যা আপনি পাচ্ছেন না এবং যা বাজারে সরবরাহ করার দক্ষতা আপনার রয়েছে।

এমন কোনও জিনিস ভাববেন না যা কিছু মানুষ ভবিষ্যতে হয়তো বা ব্যবহার করতে পারে, বরং এমন জিনিস ভাবুন যা মানুষ এখনই ব্যবহার করতে চায়। তা কোনও জিনিস হতে পারে বা কোনও পরিষেবা।



#৩ শুরুয়াতি ব্যবসার প্রাথমিক আইডিয়া তৈরি করুন

নিজের দক্ষতা, আগ্রহ ও চারপাশের সমস্যাকে চিহ্নিত করার পর তার ভিত্তিতে আপনার স্টার্টআপ ব্যবসার প্রাথমিক ধারনাগুলো পেতে পারেন।

কোন কোন বাস্তব সমস্যা রয়েছে যা আপনি আপনার দক্ষতা দিয়ে সমাধান করতে পারবেন আর তার জন্য মানুষ আপনাকে টাকা দিতে সম্মত হবে?

নিজেকে দিয়েই বিচার করুন, আপনি নিজে কী এই সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য, এই পরিষেবার জন্য টাকা দিতে রাজি হবেন?

ভাবুন আপনি কোন কোন পরিষেবা পেতে টাকা ব্যয় করেন। এরকম যতগুলো ব্যবসার আইডিয়া মাথায় আসে লিখে ফেলুন।  

#৪ বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা করুন

এরপর ব্যবসার প্রাথমিক আইডিয়াগুলোকে বাজারের চাহিদার নিরিখে যাচাই করুন, যাচাই করুন তার লাভের সম্ভাবনা। ব্যবসা আইডিয়াগুলোকে মূলতঃ চারভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

এর মধ্যে প্রথমটি যেকোনও উদ্যোগপতিরই স্বপ্ন, অর্থাত্ যেখানে বহু মানুষের মধ্যে বেশি পরিমাণে চাহিদা রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে এরকম কোনও পণ্য বা পরিষেবা যদি থাকে যে চাহিদা একটি স্টার্টআপের ক্ষমতায় পূরণ করা সম্ভব তাহলে তা কেউ ফেলে রাখবে না। ইতিমধ্যেই এক বা একাধিক ব্যবসা এই চাহিদাপূরণ করছে।

অন্যদিকে শেষেরটি করার কোনও অর্থই হয়না। বুঝতে হবে এটির কোনও বাস্তব চাহিদা আসলে বাজারে নেই। তাহলে আপনাকে দ্বিতীয় ও তৃতীয়টির মধ্যে থেকে বেছে নিতে হবে লাভজনক ব্যবসাটি।

সাধারণতঃ এমন ব্যবসাই বেছে নেওয়া লাভজনক যার চাহিদা বেশি মানুষের মধ্যে কম পরিমাণে হলেও রয়েছে। এরকম সব ব্যবসাই সফল হবে এমন নয় কিন্তু বেশিরভাগ সফল স্টার্টআপের শুরুই হয় এখান থেকে।

#৫ ব্যবসার আইডিয়াটি লাভজনক কি না খতিয়ে দেখুন   

চাহিদা সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হলেই বুঝতে পারবেন কোন অংশের মানুষের মধ্যে পণ্য বা পরিষেবাটি আপনি নিয়ে যেতে চান। সেই অংশকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করুন।

যেমন ধরুন আপনার পণ্যটির চাহিদা রয়েছে ২৫ – ৪৫ বছর বয়সী কর্মরতা মহিলাদের মধ্যে, অথবা ১৬ – ২১ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। প্রথমেই ভাবুন আপনি যাদের কথা মাথায় রেখে ব্যবসা শুরু করতে চলেছেন তাদের সেটা কেনার ক্ষমতা রয়েছে কি না? যদি থাকে তাহলে আসবে দ্বিতীয় প্রশ্ন, তারা কী আপনার পণ্যটির জন্য সেই টাকা খরচ করতে রাজি?

ব্যবসায় সফল হতে এই দুটি প্রশ্নেরই উত্তর পাওয়া জরুরি। নিজে ধারণা করতে না পারলে সেই অংশের মানুষের সঙ্গে কথা বলে বোঝার চেষ্টা করুন তারা ওই পণ্যটি কিনতে সমর্থ কি না এবং তারা সেটি কিনতে চান কি না।

এই দুটি প্রশ্নের ওপর দাঁড়িয়ে একাধিক খারাপ ও অলাভজনক ব্যবসা আইডিয়াকে ছেঁটে ফেলা সম্ভব হবে। যদি আপনার টার্গেট গ্রাহক সেটা কিনতেই না পারেন বা না চান সেক্ষেত্রে ব্যবসায় কখনই সাফল্য আসবে না। এই আইডিয়াগুলোকে বাদ দিয়ে বাকিগুলো নিয়ে ভাবুন, পরিকল্পনা করুন।

#৬ পিটার থিয়েল -এর একচেটিয়া ব্যবসা তত্ত্ব

স্টার্টআপ জগতের অন্যতম বিখ্যাত নাম পিটার থিয়েল। ২০০৪ সালে ফেসবুকে ৫,০০,০০০ মার্কিন ডলার লগ্নি করেন পিটার থিয়েল, ২০১২ সালে ফেসবুক যখন বাজারে শেয়ার ছাড়া শুরু করে তখন সেই লগ্নি ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পরিণত হয়। এছাড়াও পেপ্যাল, পালান্টির এবং ফাউন্ডার্স ফান্ড সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পিটার।

পিটার মনে করেন, সফল ব্যবসার জন্য প্রয়োজন বাজারে একচেটিয়া ব্যবসা করার মানসিকতা। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে আনেন অ্যাপেল, গুগল্ বা ফেসবুকের কথা। যারা অন্য কোনও প্রতিযোগীকে জায়গা ছাড়তে নারাজ।

পিটার থিয়েলের মতে, স্টার্টআপকে বা যেকোনও নতুন ব্যাবসায়ী কে প্রথমেই নিজের ছোট দুনিয়াটাতে রাজত্ব কায়েম করতে হবে। সহস্র যোজন এগিয়ে থাকতে হবে প্রতিযোগীদের থেকে। ঠিক যেভাবে ফেসবুক শুরু করেছিল হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দিয়ে। ফেসবুকের পরবর্তী সাফল্যের ইতিহাস সকলেরই জানা।

সবশেষে 

গতদশকে ভারতের স্টার্টআপ ব্যবসায় জোয়ার এসেছে, সরকারের পক্ষ থেকেও পরিকাঠামোগত ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে উত্সাহিত করা হচ্ছে স্টার্টআপ, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাকে। সহায়তা মিলছে অ্যামাজন, হোয়্যাটস্অ্যাপের মতো সংস্থার থেকেও। ভারতের অর্থনীতিতে ক্রমেই আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে শুরুয়াতি ব্যবসা।

ঠিক কোন ব্যবসাটি করলে আপনি সফল হবেনই তার কোনও তৈরি ফর্মুলা নেই। নানাধরনের ব্যবসার আইডিয়ার মধ্যে থেকে নিজের আগ্রহ, দক্ষতা, আর্থিক ক্ষমতা, বাজারে চাহিদা ও লাভের সম্ভাবনার ভিত্তিতে বেছে নিতে হবে উপযুক্ত ব্যবসাটি।

একদিকে যেমন হঠকারী সিদ্ধান্ত বিপদ ডেকে আনতে পারে অন্যদিকে অতি সাবধনতাও ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। ব্যবসায় কিছু পরিমাণ ঝুঁকি থাকেই, লক্ষ্য হল সেই ঝুঁকির মাত্রাকে যত সম্ভব কমিয়ে আনা।

ব্যবসার আইডিয়া নয়, শুরু করুন নিজের আগ্রহ ও দক্ষতার চিহ্নিতকরণের মধ্যে দিয়ে। দেখে নিন বাজারের প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদা। যাচাই করুন লাভের সম্ভাবনা। এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে খুব সহজেই আপনি আপনার উপযোগী ব্যবসাটিকে চিহ্নিত করতে পারবেন। 

আশাকরি আপনি কি করে লাভজনক ব্যাবসার আইডিয়া খুঁজে পাবেন তার একটা স্বচ্ছ ধারণা পেয়েছেন । 

কমেন্ট করুন

0 Comments