ব্যবসায় অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল রূপান্তর


ডিজিটাল ব্যবসার ক্ষেত্রে ডিজিটাল রূপান্তর অনেক বড় ভূমিকা রেখে থাকে, যদিও অনেকের মতে, এটি খুব একটা কাজের নয়, শুধু কথায়ই বড়! কিন্তু সকল ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রেই বর্তমান সময়ে জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে এই রূপান্তর। ছোট থেকে বড় সকল উদ্যোগের সফলতার পেছনেই এখন হাত রয়েছে একটি রূপান্তরের, একটি নতুন উদ্যমের এবং তা হলো- ডিজিটাল রূপান্তর।

ব্যবসা সংক্রান্ত সব ধরনের আলোচনা, লেখালেখি, ঘোষণা অনেক বেশি স্পষ্ট ও শ্রবণযোগ্য হয়ে ওঠে মানুষের কাছে। এ থেকে গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ে বৈকি। যেসব ব্যবসায়ীদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা কম, তাদের অনেকের কাছেই এর অর্থটাও স্পষ্ট নয়। অর্থগত দ্বিধার কারণেই জন্ম নেয় অন্য দ্বিধা, তাই ডিজিটাল রূপান্তরের অর্থ সম্পর্কে প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক-

ডিজিটাল রূপান্তর বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যাতে নতুন নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যমান ব্যবসার পদ্ধতি, সংস্কৃতি এবং খদ্দেরদের অভিজ্ঞতাকে পরিবর্তনশীল ব্যবসা ও মার্কেটের চাহিদা অনুযায়ী বদলে নেওয়া যায়।

এই প্রক্রিয়ার মধ্যে সেলস, মার্কেটিং এবং কাস্টমার সার্ভিসের মতো ঐতিহ্যবাহী ভূমিকাগুলো অবশ্যই থাকবে। তবে শুধু বদলে যাবে পরিচালনার ধরনটা। ডিজিটাল রূপান্তরের শুরু ও শেষটা হয় আপনি কী ভাবছেন, কী নিয়ে ভাবছেন, কীসের সাথে জড়াতে চাচ্ছেন এবং অবশ্যই আপনার খদ্দেরদের সাথেও এর জড়িত থাকাটা খুব বেশি জরুরী। আমরা এখন প্রায় সবক্ষেত্রেই কাগজ থেকে গুগল স্প্রেডশিটের দিকে যাচ্ছি, আমাদের দৈনন্দিন জীবনব্যবস্থায় বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করছি এবং সব সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করছি। এতে করে জীবন জটিল মাধ্যমে সহজ হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। ঠিক একইভাবে, আমাদের ব্যবসার ক্ষেত্রেও সুযোগ রয়েছে একে পরিচালনার পদ্ধতিটা নিজের সুবিধার স্বার্থেই সহজ করে নেবার, ডিজিটাল রূপান্তরের আশ্রয় নিয়ে।

একবিংশ শতাব্দীর ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে, এখন শুরু করে নিই, পরে রূপান্তরিত করবো- এমন চিন্তা রাখবেন না। বর্তমানে সবকিছুই হাতের নাগালে, তাই শুরুর সময়টাতেই ডিজিটালকরণ করে নিন, বাকি চিন্তা কমে যাবে আপন আপনিই।

অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন আমরা কাগজে-কলমেই সব হিসেব সারতাম আর সাথে থাকতো ছোট একটা ক্যালকুলেটর! কাগজে লেখা হোক বা প্রিন্ট করা হোক, ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য সবসময় কাগুজে মাধ্যমেই থাকতো আর আমরাও এতে স্বচ্ছন্দ বোধ করতাম। কাগজ, বাইন্ডার, জেরোক্স, ফ্যাক্স- এগুলোই ছিল আমাদের ব্যবসার নিত্যদিনের সঙ্গী।

তারপর হঠাৎ করেই যেন ডিজিটাল যুগের জোয়ার এলো, কম্পিউটার মিশে গেলো মূলস্রোতের সাথে। এবং তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সবাই ভরসা করতে শুরু করল কম্পিউটার ফাইলের ওপর। এই যে অ্যানালগ জীবনযাত্রা থেকে ডিজিটাল বিষয়াদির দিকে যাত্রা, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটাইজেশন প্রত্যয়ে অভিহিত করা হয়।

এখানে কীভাবে কাজ হয়?

কাজকর্মের ক্ষেত্রে তথ্যগুলোকে ডিজিটাইজড করে নেওয়ার প্রক্রিয়াটাকে আরেক প্রত্যয়ে অভিহিত করা হয়- ডিজিটালাইজেশন। ডিজিটাইজেশন আর ডিজিটালাইজেশন যে এক নয়, সে কথাও অনেকের জানা নেই। সে যাকগে, ডিজিটালাইজেশন বলতে আপনার ব্যবসাকে খোলনলচে পাল্টে দেওয়ার উদ্দেশ্য মোটেই নয়য়। এটি নতুন ধরনের ব্যবসার সৃষ্টিও করছে না। এটি বরং আপনার ব্যবসার গতি বৃদ্ধির হরমোন হিসেবে কাজ করবে। এতে করে আপনার ব্যবসা সংক্রান্ত সকল তথ্য কোনো ফাইল কেবিনেট বা বদ্ধ আর্কাইভে বন্দী না থেকে যেকোনো সময় প্রবেশযোগ্য ও তরতাজা থাকে। এখানে কোনো তথ্যই পুরনো হচ্ছে না, কোনোকিছুতেই মরিচা পড়ছে না।

এমনকি কাস্টমার সার্ভিসের কথাই ধরুন না? রিটেইলে, মাঠ পর্যায়ে, কল সেন্টারে- ডিজিটালাইজড সেবা সবক্ষেত্রেই কাস্টমার রেকর্ডগুলো গুছিয়ে রাখছে, যখন আপনার দরকার তখনই একটি ক্লিকে আপনি তা পেয়ে যাচ্ছেন। সহজে রেকর্ড তৈরি করা যেমন যাচ্ছে, তেমনি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও আগের মতো চিন্তা নেই।

কাস্টমার সার্ভিসের মৌলিক পদ্ধতি কিন্তু বদলায়নি, বদলেছে শুধু তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পদ্ধতি।

সম্ভাবনার দুয়ার

একেকটি কোম্পানি কীভাবে তাদের কাস্টমারের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে ডিল করে, সেটির ধরন অনেকটাই বদলেছে ডিজিটাল রূপান্তরের দ্বারা। পুরনো নিয়ম অনুযায়ী, কাস্টমারদের জন্য অপেক্ষা করতে হতো যে তারা কখন আপনার ব্যবসার কথা লোকমুখে শুনবে, বা কোথাও সাইনবোর্ড দেখবে এবং তারপর হয়তো আসবে। এখানে সম্ভাবনার মাত্রা অনেক বেশি কম ছিল। কিন্তু এখন বিষয়টি তেমন নয় একেবারেই।

সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তার জোয়ারে এবং সর্বোপরি ডিজিটাল রূপান্তরের কল্যাণে, কাস্টমাররা খুব অল্প খরচ ও চেষ্টাতেই আপনার ব্যবসা এবং পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জেনে যাচ্ছে। বিভিন্ন রিভিউয়ের মাধ্যমে তারা মান সম্পর্কেও নিশ্চিত হয়ে নিচ্ছে এবং তারপর নিশ্চিতভাবে আপনার কাছে আসছে। এক্ষেত্রে দ্বিধার কোনো অবকাশই আর থাকছে না।

তথ্যসুত্রঃ ইন্টারনেট


No comments: