করোনাকালে রমজান সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

রমজান মাস মুসলিম উম্মার জন্য আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এক বিশেষ নেয়ামত । রমজান মাসের রোযা রাখাকে আল্লাহপাক মুসলিম জাহানের মুসলিমদের জন্য  ফরজ করে দিয়েছেন।  নির্দিষ্ট বয়স পর প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উপর রোজা রাখা ফরজ।  আল্লাহ পাক কুরআনুল কারীমে রোজা রাখা সম্পর্কে মুসলমানদেরকে বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।  রোজা রাখার মাধ্যমে আমরা মুসলমান জাতির আল্লাহ তা'আলার অনেক বেশি সান্নিধ্য লাভের সুযোগ পাই আল্লাহপাক আমাদেরকে রোজা না রাখার ব্যাপারে কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 

 করোনাকালে রোজা রাখা বা না রাখা নিয়ে যদি আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আজকে আমরা সেই বিষয়গুলো খোলাসা করার চেষ্টা করব।  এখানে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ আপনাদের কাছে তুলে ধরব যাতে করে আমাদেরকে শয়তান কোনভাবে রোজা রাখার ব্যাপারে ওয়াসওয়াসা না দিতে পারে। 

করোনাকালে রমজান সম্পর্কে কিছু পরামর্শ 



এমএসকে আমরা মুসলমান জাতি রা দানশীলতা,  সংযোগ,  আত্মশুদ্ধি এবং প্রার্থনার মাস হিসেবে গণ্য করে থাকি।  একসঙ্গে নামাজ পড়া সারাদিন রোজার শেষে ইফতারি করে খাওয়া এ যেন আল্লাহ পাকের এক বিশেষ নেয়ামত।  কিন্তু করোনাকালে আমাদের চিরচেনা রমজান মাসকে একটু অন্য ভাবে পালন করার জন্য বলা হচ্ছে।  স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানোর জন্য যা যা করা প্রয়োজন আমাদেরকে অবশ্যই সেগুলো মেনে চলতে হবে।  প্রত্যেকটা দেশের জন্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ব্যাপারে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। 

করোনাকালে রোজা রাখার ব্যাপারে কোনো ঝুঁকি নেই

 করণা কালের রোজা রাখলে শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা কোন ধরনের ঝুঁকি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।  তাই স্বাভাবিক সময়ের মতোই রোজা রাখতেন সুস্থ মানুষের কোন প্রকার বাধা নেই।  আল্লাহপাক অসুস্থ মানুষদের জন্য রোযা রাখার ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন তাই যদি কেউ করণায় আক্রান্ত থাকে সে ব্যাপারে তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে আল্লাহপাকের নির্দেশনা অনুসারে রোজা রাখা না রাখার ব্যাপারে সে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এ ব্যাপারে অবশ্যই তাকে চিকিৎসক এবং ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ দিতে হবে। 

করোনাকালে  পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার এবং পানি পান করুন


যেহেতু কোভিদ নাইনটিন এর কোন ঔষধ ভাব প্রতিষেধক এখনো পর্যন্ত সেভাবে আবিষ্কার হয়নি তাই যতটুকু সম্ভব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উপরই ভরসা করে থাকা। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত পানির বিকল্প কিছু হতে পারে না।  তাই সেহরী এবং ইফতারের সময় চেষ্টা করতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার জন্য।  এছাড়া যেহেতু এবারও রোজা পড়েছে গরমের মধ্যে তাই শরীরে পানিশূন্যতা দূর করার জন্য সেহরি ইফতারের মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব জরুরি। 

করোনাকালে শারীরিক কসরত এর উপর জোর দিন

শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য শারীরিক কসরত এর বিকল্প কিছু হতে পারে না।  আমরা চাইলেই কিন্তু সামান্য একটু শারীরিক কসরত এর মাধ্যমে নিজেদের শরীরকে সচল করে দিতে পারি।  বর্তমানে ঘরের মধ্যে বসে থেকে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক গঠনের কৌশল প্রয়োগ করে হালকা ব্যায়াম করে নেওয়া যায়।  ইউটিউবে ভিডিও দেখে অথবা মোবাইলে শারীরিক কসরত এর অ্যাপ ডাউনলোড করে দেখে দেখে ব্যায়াম করা যেতে পারে। 

করোনাকালে শুভেচ্ছা বিনিময়ের ব্যাপারে সতর্কতা


করোনাভাইরাস যেহেতু একটি সংক্রমণ রোগ তাই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।  করমর্দন, বুকে বুক শুভেচ্ছা বিনিময় করা থেকে বিরত থাকাই হবে আমাদের জন্য মঙ্গলকর।  সে ক্ষেত্রে সালাম এর মাধ্যমেও নিজেদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারি । 

করোনাকালে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিরা অরুনা ভাইরাসের আক্রমনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।  যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চল্লিশোর্ধ ব্যক্তিরা করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণ  করবেন।  পাশাপাশি এ সময়টাতে নিজেদেরকে আলাদা যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যত্নবান হবেন।  যেহেতু ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিরা সাধারণত ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য রোগে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে আলাদা যত্নবান হওয়া খুব জরুরি। প্রায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাকালে এই ব্যক্তিদেরকে আলাদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। 

করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন 

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যারা দুঃসময় চলো কোলাহলময় জায়গায়  ঘোরাফেরা করেছেন এবং মাক্স পড়ে থাকা করে চলাফেরা করেছে তাদের বেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরিমাণ বেশি । তাই নিজের জন্য এবং পাশের লোকটির জন্য অবশ্যই নিজেদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা উচিত।  

করোনাকালে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সতর্ক হোন

 যদিও প্রতিবার নামাজের আগে ওযু করার ফলে এমনিতেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত হয় তবুও করোনাভাইরাস এর সংক্রমণ থেকে মুক্তির জন্য আরেকটু বেশি সর্তকতা অবলম্বন করার চিকিৎসকদের পরামর্শ।  শুধু পানির বদলে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে । পাশাপাশি মসজিদে পরিছন্নতা সরঞ্জাম,  টিস্যু,  ঢাকনাযুক্ত   ডাস্টবিন রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।  এছাড়াও মসজিদের কার্পেট সহ উপস্থিত ভবনের ব্যবহারযোগ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত । 

করোনাকালে যাকাত ও সাদাকা 


প্রতিবছরই রমজান মাসে মুসলিমদের পাথরের উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।  দান সদকার মাধ্যমে আমাদের বিপদ আপদ দূর হয়ে যায়। 

করোনাকালে মানসিক স্বাস্থ্য 

লকডাউন এবং সামাজিক দূরত্ব তৈরি করতে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে  অনেকেই বিপর্যস্ত তাই মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন । বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহ পাকের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করা। 


কমেন্ট করুন

0 Comments