ফ্রিল্যান্সিং জিনিসটা কি? ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কিত ক্যারিয়ার গাইডলাইন!

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কিত ক্যারিয়ার গাইডলাইন!

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে বাংলাদেশ খুব একটা ভালো অবস্থানে রয়েছে । অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের সাথে আমাদের বাংলাদেশের তরুণ যুবক যুবতীরা সম্পৃক্ত হয়ে বিদেশ থেকে টাকা আয় করে ফরেন রেমিটেন্স নিয়ে আসছে।  যেহেতু আমাদের বাংলাদেশে পর্যাপ্ত সরকারি এবং বেসরকারি চাকরির অভাব রয়েছে তাই এখানে শিক্ষিত যুবক যুবতীদের ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রতি ঝোঁক বাড়ছে। 

আমাদের মাঝে অনেকেরই ধারণা রয়েছে যে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে একটা স্বাধীন পেশা বা স্বাধীন জব।  এটিকে আমরা মূলত একটি মুক্ত পেশা হিসেবে পরিচিতি দেই। যেহেতু এটা এক ধরনের মুক্ত পেয়েছে তাই আমরা অনেকেই ভাবিতে কেন আমি অন্যের আন্ডারে থেকে কাজ করবো? যদি আমি এখানে মুক্ত এবং স্বাধীনভাবে কাজ করে টাকা উপার্জন করতে পারি। সত্যিকার অর্থে ফ্রিল্যান্সিং পেশা কতটুকু মুক্ত পেশা অথবা আদৌ কি এটি কোন মুক্ত পেশা কি না আজকের এই আর্টিকেলে আমরা সম্পূর্ণ ভাবে আলোচনা করব। 

ফ্রিল্যান্সিংয়ে আমাদের বাংলাদেশের মানুষের মাঝে একটি ভুল ধারণা রয়েছে। ফ্রীলান্সিং বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আমাদের বাংলাদেশ অনেক ধরনের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।  এটা নিয়ে অনেক লোভী মানুষেরা নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কে পথভ্রষ্ট করছে।  তাদের নিজেদের ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা নেই তারপরেও ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোচিং করানোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। 

আপনি হয়তো ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে ইতিমধ্যে অনেক জানা-অজানা তথ্য শুনেছেন। হয়তোবা আপনি কোন কোন সময় ইউটিউবে অথবা গুগলে সার্চ করে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।  এমন হতে পারে গুগলে অথবা ইউটিউবে থেকে আপনি আমার এই ওয়েবসাইটে চলে এসেছেন ফ্রিল্যান্সিং কি এটা সম্পর্কে জানার জন্য। যদি ব্যাপারটা তাই হয় তাহলে আপনাকে অনুরোধ করবো এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য। 

 আজকের আর্টিকেলে আমরা যে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করব তা হল

  •  ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টা কি?
  •  ফ্রিল্যান্সার কাদের বলা হয়?
  •  ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধাবলি কি কি?
  •  ফ্রিল্যান্সিংয়ের অসুবিধা গুলো কি কি?
  • ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা সম্ভব?
  •  ফ্রিল্যান্সিং এ কিভাবে নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন ? 
  • ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখব?
  •  ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করব?
  •  ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট থেকে কিভাবে কাজ পাব?
  •  কিভাবে পারিশ্রমিক বুঝে নিতে হয়? 

উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিংকে আপনার ক্যারিয়ার হিসেবে নির্বাচন করতে চান।  অন্যথায় ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে কোন অসাধু কোচিং সেন্টারের চক্করে পড়ে আপনার কষ্টে উপার্জিত টাকা নষ্ট হতে পারে।   চলুন মূল আলোচনা শুরু করি--------

প্রথমে জেনে নেয়া যাক ফ্রিল্যান্সিং কি? 

ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চুক্তি করে কাজ নিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে সেই কাজ বুঝিয়ে দিয়ে তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলে । হয়তো বিষয়টি আপনি এখনো বুঝে উঠতে পারেননি।  চলুন বিস্তারিতভাবে একটু সহজ করে বোঝার চেষ্টা করি। 

ফ্রিল্যান্সিং ছাড়া আমরা আসলে কিভাবে চাকরি করি? সাধারণত আমরা পড়াশোনা শেষ করার পর কোন কোম্পানিতে চাকরি নেওয়ার জন্য সিভি তৈরি করি।  পরবর্তীতে সেই সিভি আমাদেরকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হয় । বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সেটাকে যাচাই-বাছাই করে যদি আমাকে উপযুক্ত মনে করে তাহলে আমাকে চাকরি দিয়ে দেয়।  এবং সেখানে কিছু চুক্তি থাকে যেমন সকাল 8 টা থেকে বিকাল 5 টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হবে এবং নির্দিষ্ট একটা বেতন নির্ধারণ করা থাকে । 

ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রায় একই রকম।  ফ্রিল্যান্সিং এ জব করার জন্য সিবি না বরং আপনি যে কাজ পারেন তার প্রমান দেখাতে হয়। আপনি যে বিষয়ে অভিজ্ঞ সেই বিষয়ে কাজ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজের নমুনা দেখিয়ে কাজের জন্য আবেদন করতে হয়।  তখন আপনার প্রদর্শিত কাজের নমুনা দেখে যদি ক্লায়েন্ট পছন্দ করে তাহলে আপনাকে দিয়ে সেই কাজ করিয়ে নেবে।  তাই ফ্রিল্যান্সিং কেউ এক ধরনের জব বা চাকরি বলা যায়। 

ফ্রিল্যান্সিং জব নরমাল জব এই দুইটার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে।  নরমালে আমরা যে ধরনের জব করি তাতে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া থাকে কাজের জন্য এবং বেতনের বেলায়ও একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা থাকে।  রুটিনমাফিক অফিসে যেতে হয় এবং আসতে হয় মন চাইলেই কাজ থেকে বিরতি নেওয়া যায় না কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং এ ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

 ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনি আপনার মন মত সময় নির্ধারণ করতে পারবেন।  এখানে আপনি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ধরাবাঁধা নিয়মের মধ্যে না থেকে কাজ করতে পারবেন।  যখন মন চাইবে কাজ করতে পারবেন আর যখন ইচ্ছা করবে না তখন কাজ থেকে বিরত থাকতে পারবেন।  কাজের ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট বেতনের সীমাবদ্ধতা ও নেই।  এ জন্যই মূলত ফ্রিল্যান্সিংকে মুক্তপেশা বলা হয় এবং ফ্রিল্যান্সিং করতে বেশির ভাগ লোক পছন্দ করে। 

এখন কিছু বাস্তব কথা বলি।  যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের বেলায় যখন ইচ্ছা তখন কাজ করব বিষয়টাকে বেছে নেন তাহলে আপনি ভালো ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন না।  একজন ভালো মানের ফ্রীল্যান্সার হতে হলে অবশ্যই কাজটাকে গুরুত্বসহকারে করতে হবে।  সাধারণত আমরা একটা চাকরি করার বেলায় সেটাকে যতটা গুরুত্ব দিয়ে করি ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টা কেউ ততটা বা তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে  করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনি যত বেশি সময় দেবেন সেইসাথে ক্লায়েন্টের সাথে যত বেশি যোগাযোগ করবেন,  তত বেশি টাকা উপার্জনের পথ উম্মোচিত হবে।  নিজের মত কাজ না করে যদি টাইম মেইনটেইন করে কাজ করেন তাহলে ক্লায়েন্ট আপনাকে দিয়ে বেশি বেশি কাজ করাতে  চাইবে । 

চলুন এবার জেনে নিই ফ্রিল্যান্সাররা কিভাবে কাজ করে? 

ফ্রিল্যান্সারের কিভাবে কাজ করে সেটা বুঝতে হলে সবার আগে আমাদেরকে ফ্রীলান্সিং কি এই বিষয়টাকে ভাল করে রপ্ত করতে হবে। 

উদাহরণস্বরূপ ধরুন আপনি একটি নতুন রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন কিন্তু আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কেউ তেমন কিছু জানেনা।  আপনার প্রতিষ্ঠানটিকে পরিচিত করার জন্য আপনার একটা ওয়েবসাইটের প্রয়োজন।  তাহলে আপনি কি করবেন।  প্রথমত আপনি একটি ওয়েবসাইট বানাতে চাইবেন।  এর জন্য যারা ওয়েবসাইট বানাতে পারে তাদেরকে আপনি খুঁজে বের করবেন। যারা ওয়েবসাইট বানাতে পারে তাদেরকে খোঁজার জন্য অনলাইনে অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে। 

আপনি মার্কেটপ্লেসে আপনার কাজের বিবরণ দিয়ে একটি পোস্ট করবেন।  তারপর যারা ওয়েবসাইট বানাতে পারে তারা তাদের আইডি থেকে আপনার কাছে কাজের আবেদন করবে।  যারা কাজের আবেদন করবে তাদের কাছ থেকে আপনার কাছে যাকে সবচেয়ে অভিজ্ঞ লোক মনে হবে তাকে আপনি কাজটি দিবেন। কাজ দেওয়ার সময় একটা চুক্তি হবে যে আপনি এত টাকা দিবেন এবং কত ঘন্টা সময় কাজ করতে হবে । 

এরপর কাজটি সম্পন্ন হলে আপনাকে সে মার্কেটপ্লেসের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কাজ জমা দেবে।  কার জমা দেওয়ার পর আপনি তাকে তার পাওনা টাকা পরিশোধ করে দিবেন । এভাবে মূলত একজন ফ্রিল্যান্সার অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করে। 

আপনি যখন বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে নিয়মিত কাজ করবেন,  বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সাথে পরিচিত হয়ে ওঠার কারণে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের কাজ করানোর জন্য সরাসরি আপনার মোবাইলের মাধ্যমে আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। আপনি যখন ভালো লেভেলের ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন,  তথন ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে লাখ টাকা আয় করা আপনার জন্য কোন ব্যাপার হবে না। একজন ফ্রীল্যান্সার মূলত এভাবেই অনলাইনে কাজ করে মাসে ঘরে বসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করে। 

ফ্রিল্যান্সিং কি আরও সহজভাবে বলছি! 

উপরের আলোচনা থেকে আপনি হয়তো এতক্ষণে বুঝতে পেরেছেন যে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে ঘরে বসে অনলাইনে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করে প্রচুর টাকা ইনকাম করা যায়। 

যদিও আমরা মনে করি এতে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে মুক্তভাবে স্বাধীন চিত্তে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করা যায় কিন্তু ব্যাপারটা সেরকম নয়।  একজন ফ্রীল্যান্সার বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে যত বেশি সময় ব্যয় করবে তত বেশি ইনকামের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।  এখানে একজন ফ্রিল্যান্সারকে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হয়।  যারা ফ্রিলেন্সিংকে মুক্ত পেশা হিসেবে ধরে নিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করবে,  তারা ফ্রিল্যান্সিংয়ে কখনো সফলতা অর্জন করতে পারবে না।  ফ্রিল্যান্সিং এ সফলতা অর্জন করতে হলে একজন ফ্রিল্যান্সারকে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে বেশি বেশি সময় ও শ্রম দিতে হবে। 

ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধা গুলো কি ? 

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে স্বাধীনতা রয়েছে।  কাজের জন্য আরো কাছে জবাবদিহিতা করতে হয় না এবং বসের বকাঝকাও শুনতে হয় না।

  • চলমান চাকরির চেয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বেশি অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। 
  • ফ্রিল্যান্সিং কাজের কোন সীমাবদ্ধতা নেই।  আপনি যত কাজ করবেন তত বেশি ইনকাম করতে পারবেন।
  •  মাসে একের অধিক সময় টাকা উত্তোলন করা যায়।  যেটা সাধারণত অন্যান্য চাকরির বেলায় সম্ভব নয়।
  •  কম সময়ে বেশি টাকা উপার্জন করা যায়। 
  •  ঘরে বসে কাজ করা যায় এবং কাজের জন্য অফিসের প্রয়োজন হয় না।
  •  ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করতে হলে কোন ধরনের ইনভেস্টমেন্টের প্রয়োজন নেই। 


ফ্রিল্যান্সিংয়ের অসুবিধাগুলো কি?

প্রত্যেকটি কাজের ভালো এবং মন্দ উভয় দিক রয়েছে।  যে কোন কাজ শুরু করার আগে সুবিধাগুলো জানার পাশাপাশি, অসুবিধা গুলো জানা আরও বেশি জরুরি। অসুবিধাগুলো না জেনে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের প্রবেশ করার পর যদি তেমন ভালো কিছু না করতে পারেন তাহলে হয়তো আর্থিক সঙ্কটে পড়তে পারেন। 

  •  ফ্রিল্যান্সিং কাজের কোন নিরাপত্তার গ্যারান্টি নেই। কোন মাসে এমনও হতে পারে যে সারা মাসে আপনি একটি ও কাজ  পাননি। 
  •  আমাদের সমাজে অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং বোঝে না তাই এটাকে সম্মান দিতে পারেনা। 
  • আপনি যে কাজ করবেন সম্পূর্ণটা নিজেকেই করতে হবে,  অন্যকে দিয়ে করানোর সুযোগ নেই। 
  •  টাকা উত্তোলনের বেলায় আমাদের দেশে এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। 
  •  মার্কেটপ্লেস ব্যতীত ক্লায়েন্টের সাথে সরাসরি যোগাযোগের কোন সুযোগ নেই। 

ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে কত টাকা আয় করা সম্ভব? 

ফ্রিল্যান্সিং এ ইনকাম এর পরিমাণ নির্ভর করে আপনার কাজের দক্ষতার ওপর।   আপনার কাজের কোয়ালিটি যত ভালো হবে,  ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে ততবেশি কাজ পাবার সম্ভাবনা রয়েছে।  মানে আপনি যত বেশি কাজ করবেন আপনার ততো বেশি টাকা উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত টাকা উপার্জন করতে হলে নিজের যোগ্যতা কাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে ইনকামের জন্য লেগে থাকতে হবে। 

সাধারণত ফ্রিল্যান্সাররা ঘন্টা, দিন, সপ্তাহ হিসেবে কাজ করে আয় করে থাকেন । ঘন্টা দিন অথবা সপ্তাহ প্রতি চুক্তির ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটের যার অবস্থান যত ভালো,  সে ততো বেশি চার্জ করতে পারে বা ইনকাম করতে পারে। 

ফ্রিল্যান্সিং জিনিসটা কি?  ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কিত ক্যারিয়ার গাইডলাইন!

উপরের ছবিতে তিনজন ফ্রিল্যান্সারের প্রোফাইল দেখতে পাচ্ছেন যেখানে একজন ঘণ্টাপ্রতি 85 ডলার করে ইনকাম করেন। তিনি মূলত ইউ আই ইউ এক্স ডিজাইনার  পাশাপাশি  মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডিজাইনের ওপর এক্সপার্ট। যদি তিনি দিনে  6 ঘন্টা কাজ করেন তাহলে তার পারিশ্রমিক হবে 510 ডলার।  বাংলা টাকা কনভার্ট করলে হবে 43,435 টাকা। যা একজন ভাল মানের ফ্রিল্যান্সারের কাছে মামুলি ব্যাপার। 

পাশাপাশি আপনি আরো দুইজনের ফ্রিল্যান্সিং প্রোফাইল দেখতে পাচ্ছেন যারা  ঘণ্টাপ্রতি একটা ভালো অ্যামাউন্ট চার্জ করে। আপনার প্রতি ঘন্টায় কত টাকা নিবেন বা কোন কাজের জন্য কত টাকা পাবেন, সেটা আপনার জনপ্রিয় তারকাদের কোয়ালিটির উপর নির্ভর করবে। মোটকথা ফ্রীলান্সিং মার্কেটে আপনার যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারবেন,  আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে ততো বেশি ইনকাম করতে পারবেন। 

আমাদের বাংলাদেশ অনেক ভালমানের ফ্রিল্যান্সাররা রয়েছে যারা প্রতি মাসে 3 থেকে 5 লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করছেন। তাছাড়া আমাদের বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ফ্রীলান্সিং সেক্টরে বেশ ভালো এগিয়েছেন।  সেখান থেকেও অনেক ভালমানের ফ্রিল্যান্সার মাসে চার পাঁচ লক্ষ টাকা ইনকাম করছেন। 

ফ্রিল্যান্সিংয়ে আমাদের বাংলাদেশের অবস্থান কত? 

মজার বিষয় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে আমরা বাংলাদেশীরা ভালোই এগিয়ে রয়েছে।  ফ্রিল্যান্সিংয়ের ভারতের পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা মূলত সেলস এন্ড মার্কেটিং সাপোর্ট,  সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট,  ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট,   মাল্টিমিডিয়া,  গ্রাফিক ডিজাইন,  ভিডিও এডিটিং  এছাড়াও প্রযুক্তি গত দিকগুলোতে বেশি আগ্রহ দেখা যায়।  আমাদের বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের পারিশ্রমিক মাসিক আয় মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় 5 হাজার টাকার মতো।  তবে বাংলাদেশ থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আরো বেশি টাকা ইনকামের সুযোগ রয়েছে।              

উপরের চিত্রে বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কোন কোন দেশ কোন কোন পজিশনে রয়েছে তার একটি নমুনা দেখানো হয়েছে। যেখানে আমাদের বাংলাদেশে রয়েছে অষ্টম পজিশনে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের তুলনায় মাত্র 2% এগিয়ে রয়েছে।  ক্ষুদ্র দেশ হিসেবে,  সারা বিশ্বে যত ফ্রিল্যান্সার রয়েছে,  তার মধ্যে প্রায় 27 শতাংশ ফ্রিল্যান্সার আমাদের দেশে রয়েছে।  এছাড়া আমাদের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের চতুর্থ অবস্থানে অবস্থান করছে।  আমরা নিশ্চয়ই আগামীতে আমাদের পজিশন আরও সামনে এগিয়ে নিতে পারব। 

তাহলে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো? 

এতক্ষণে আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে ঘরে বসে অনলাইন হতে টাকা আয় করার একটা পদ্ধতি । সুতরাং ঘরে বসে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে চাইলে আপনার প্রয়োজন হবে একটি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ সাথে ইন্টারনেট কানেকশন। 

 এগুলো যদি আপনার কাছে থাকে তাহলে আমরা এবার জানবো কিভাবে ইনকাম করা সম্ভব।  ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আপনি কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি দক্ষ অথবা কোন বিষয়ের উপর কাজ করলে আপনি অল্প সময়ে প্রচুর কাজ করতে পারবেন।  এখন আপনি নিজেকে প্রশ্ন করেন যে,  যদি কেউ আপনাকে কোন কাজ করে দিতে বলে তাহলে আপনি কোন কাজটি সবচেয়ে কম সময়ে সবচেয়ে ভাল ভাবে করে দিতে পারবেন।  যদি এমন কোন কাজ আপনার জানা থাকে তাহলে আপনি আপনার অভিজ্ঞতা,  দক্ষতা এবং কাজ করার ইচ্ছার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে একটা হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট ইনকাম করতে পারবেন।  দুঃখের বিষয় হচ্ছে কোন বিষয়ে দক্ষতা না থাকলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং  করতে পারবেন না। 

এখন ধরা যাক যদি আপনার কোন বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকবে কিন্তু আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে চাচ্ছেন তাহলে কি করবেন।  এক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে কোন একটি কাজ ভালোভাবে শিখিয়ে নিতে হবে।  শেখার ক্ষেত্রে আমি বলব,  যে কাজ শেখার ক্ষেত্রে আপনার আগ্রহ আছে এবং যে কাজটি আপনি সহজেই শিখতে পারবেন বলে মনে হয় আপনি অবশ্যই সেই কাজটি শিখবেন।  ভালোভাবে শেখার জন্য আপনাকে অবশ্যই 6 মাস থেকে 1 বছর সময় ব্যয় করতে হবে। 

 যদি আপনি ভেবে থাকেন যে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য এক বছর সময় ব্যয় করা আপনার জন্য সম্ভব নয়।  তাহলে আমি বলবো ভাই আপনার ফ্রিল্যান্সিং করার প্রয়োজন নেই । ফ্রিল্যান্সিং এর কথা না ভেবে আপনি অন্য কোন চাকরি করার কথা ভাবো তাহলে  ভালো হবে । বেঁচে থাকার জন্য ফ্রিল্যান্সিং করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।  পৃথিবীতে আরো অনেক কর্ম রয়েছে যেগুলো করেও অনেক টাকা ইনকাম করা সম্ভব।  আপনি যদি মনে করেন যে,  কম্পিউটারের সামনে বুঝবো আর মাউস কি তারপর টাকা বেরিয়ে আসবে তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন।  কাজ না জেনে ফ্রিল্যান্সিংয়ে এসে টাকা ইনকাম করা সম্ভব নয় । 

এখন একটা কমন উদাহরণ দেব।  দেখুন আমরা আমাদের সমাজে চলমান সাধারণ চাকরিগুলো করার জন্য আমরা কত বছর অপেক্ষা করি।  একটা চাকরি করার জন্য আমরা ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে অনার্স অথবা মাস্টার্স করার জন্য 18 থেকে 20 বছর সময় ব্যয় করি।  দীর্ঘ 20 বছর পড়ালেখা শেষ করে আমরা মাত্র 20 থেকে 30 হাজার টাকা বেতনের একটা চাকরি পাওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ লোকের সাথে চাকরি বাজারে কম্পিটিশন করি।  তারপর সেই কঠিন কম্পিটিশনের টিকতে পারলে প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হয় যে সময় অফিসে যেতে হয়।  অর্থাৎ আপনি যাদের চাকরি করবেন তারা আপনাকে যেভাবে সময় বেঁধে দেবে যত টাকা বেতন দেবে সেটার মধ্যে আপনাকে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। 

একজন ব্যক্তি মাত্র 20/30 হাজার টাকায় চাকরি করার জন্য যদি 20 বছর পরিশ্রম করতে পারে তাহলে মাসে 50 থেকে 1 লক্ষ টাকা আয় করার জন্য কেন মাত্র এক বছর সময় ব্যয় করতে পারবেনা ।  যদি একজন লোকের এক বছর সময় ব্যয় করে কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিং করার ধৈর্য না থাকে তাহলে আপনি বরং ফ্রীলান্সিং না করে বা ফ্রিল্যান্সিং এর কথা না ভেবে অন্যকিছু করুন। 

ফ্রিল্যান্সিং পেশা কাদের জন্য ? 

যেই লোক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কমিউনিকেশন করতে জানেন বা যোগাযোগ করতে জানেন। 

  • যাদের কাজ শেখার প্রচুর আগ্রহ রয়েছে। 
  •  যাদের মিনিমাম একটি কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
  •  যাদের নগদ টাকা আই এর  লোভ নেই (  আজকে এসে কালকে ইনকাম করতে  চাওয়া লোক) 
  • যাদের টাকার প্রতি লোভ নেই।
  • যাদের ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা রয়েছে। 

আমার মনে হয় কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন এ সম্পর্কে আপনি একটা স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন।  মনে রাখবেন ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করার জন্য কোন রকমের শর্টকাট পদ্ধতি নেই।  এখানে আপনাকে প্রচুর শ্রম দিতে হবে এবং কোয়ালিটি সম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করার মতো দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এখানে আপনি ভালো কাজ করতে পারলেই ভালো ইনকাম করতে পারবেন। তাই বলছি যদি ফ্রিল্যান্সিং করে বস্তা বস্তা টাকা ইনকাম করতে চান তাহলে প্রথমে আপনাকে কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।  যখন আপনি একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবেন তখনই আপনার ডলার ইনকামের পথ উন্মোচিত হবে। 

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কিভাবে গড়বো ? 

নতুনদের কাছে ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার গঠন করার ব্যাপারটা শুনে অবাক  হবেন অনেকেই।  এখানে অবাক হওয়ার কোনো অবকাশ নেই কারন বিশ্বব্যাপি কোটি কোটি মানুষ এখন বিভিন্ন চাকরিতে জয়েন না করে ফ্রিলেন্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়ে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে।  সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের বাংলাদেশেও এমন হাজারো সোনার ছেলে রয়েছে যারা ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার গঠন করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন। ফ্রিল্যান্সিং করে আপনি প্রতি মাসে কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন এ ব্যাপারে অলরেডি একটা ধারণা পেয়ে গিয়েছেন।  তো আপনি ফেলে নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে নিম্নে আপনার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া রইল। 

 যদি ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে নিম্নে বর্ণিত বিষয়গুলো যদি অনুসরণ করেন তাহলে আশা রাখা যায় অবশ্যই আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

১। প্রথমে নিজের লক্ষ্য স্থির করতে হবে 

প্রথমে আপনাকে লক্ষ্য স্থির করতে হবে যে আপনি ফ্রিল্যান্সিং পেশা হিসেবে নিয়ে যদি কাজ করতে চান তাহলে এটাকে ফুলটাইম পেশা হিসেবে বেছে নিবেন নাকি পার্টটাইম পেশা হিসেবে বেছে  নেবেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে ভালো করতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে ফুলটাইম ফ্রিল্যান্সিং করার দিকে অগ্রসর হতে হবে।  যদি আপনি বর্তমান পেশার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাহলে একটা নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন করে নিতে হবে। টাইম মেনটেন না করে যখন খুশি তখন কাজ করে ফ্রিল্যান্সিং করার চিন্তা-ভাবনা করলে আপনি সফল হতে পারবেন না।  তাই ফুলটাইম অথবা পার্টটাইম যেভাবেই ফ্রিল্যান্সিং করুন না কেন আপনাকে একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে নিতে হবে। 


২।  কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবেন ভেবে নিন

 কোন বিষয়ে বা ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন বা কোন বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আছে, আপনাকে প্রথমে সেটা ঠিক করে নিতে হবে। আপনি যদি কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ না হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনাকে আগে যে কোন একটা বিষয়ে কাজ শিখতে হবে এবং কোন বিষয়ে কাজ শেখার আগ্রহ রয়েছে, সেটা আপনার নিজে নিজে বের করে নিতে হবে। পছন্দের কাজটি খুঁজে বের করার জন্য অবশ্যই নিজেকে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে যে,  আপনি কোন কাজ অল্প সময়ে শিখতে পারবেন এবং খুব ভালো করে শিখতে পারবেন। 

তবে মন মত যেকোনো কাজ শিখলেই আবার ফ্রিলান্সিংয়ে ভালো করা সম্ভব নয়।  ফ্রিল্যান্সিংয়ের ভালো করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু কাজ রয়েছে যেগুলোতে প্রচুর ইনকাম এর সুযোগ রয়েছে।  নিম্নে এ বিষয়ে একটুও  টাচ দিয়ে যাচ্ছি। 

  • এমন একটা বিষয়ে কাজ শিখতে হবে যে বিষয়ে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে চাহিদা রয়েছে। 
  •  যে কাজে আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আছে,  সেই  কাজ দিয়ে শুরু করতে হবে।
  • অবশ্যই যে কাজ করতে আপনার ভালো লাগে সেই কাজ সম্পর্কিত যেকোন একটা কাজ শিখে মাঠে মাঠে নামতে হবে। 
  •  যে কাজ নিয়ে আপনি রিচার্জ করতে পছন্দ করেন বাজে বিষয় নিয়ে নতুন নতুন জিনিস উদ্ভাবন করতে ভালোবাসেন সেটাকে নিয়ে কাজ করলে আরও ভালো করতে পারবেন। 
  • যে বিষয়ে আপনার কখনোই বিরক্ত আসেনা,   সে বিষয়ে কাজ করতে হবে। 

তাহলে নিশ্চয়ই আপনি বুঝতে পেরেছেন যে ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে কোন ধরনের কাজ শিখতে হবে।  ফ্রিল্যান্সিং শেখার আগে অবশ্যই টপিকঃ নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটু বেশি সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।  সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে যে কাজগুলো বেশি চাহিদা রয়েছে সেগুলো ওপরে গুরুত্ব দিতে হবে।  


৩। কোন কোন মার্কেটপ্লেসে কাজ করবেন

অনলাইনে হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস রয়েছে সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ করানোর জন্য ফ্রীলান্সের দের খুঁজে বেড়ায়। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ করতে হবে কারণ জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস গুলোতে প্রচুর ক্লান্ত থাকে এবং প্রচুর কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

 আপনি যদি কোনভাবে যেকোনো জনপ্রিয় একটি বা দুটি ফ্রীলান্সিং মারকেটপ্লেস অদক্ষতা ও বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করতে পারেন তাহলে খুব অল্প দিনেই সেই মার্কেটপ্লেসে নিজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে পারবেন।  আর যদি কোনভাবে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস গুলোকে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং এ সফলতা পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে আর কেউ ঠেকাতে পারবেনা।   এজন্য মার্কেটপ্লেসে নিজেকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য যতটুকু করার প্রয়োজন প্রাণপণ চেষ্টা করে ততটুকু করার চেষ্টা করবেন। 

 জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সার এ পরিণত হতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে মার্কেটপ্লেসে কাজের ক্ষেত্রে বিশ্বস্থতা ও কাজের কোয়ালিটি মেইনটেইন করতে হবে।  কারণ কোন কাজ ভালোভাবে করে সেটি বিশ্বস্ততার সহিত ক্লায়েন্টকে সাপ্লাই দিলে এবং আপনার কাজ প্লান্টের পছন্দ হলে ক্লায়েন্টরা কিন্তু বারবার আপনাকে কাজের অফার করবে।  তখন আপনাকে কাজ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বেশি চিন্তা করতে হবে না। 

 জনপ্রিয় পাঁচটি ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে জেনে নিন 

ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করার জন্য অনলাইনে হাজার হাজার মার্কেটপ্লেস রয়েছে তার মধ্য থেকে সবচেয়ে জনপ্রিয় পাঁচটি মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে এখন কথা বলব।  আপনি এই মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট করে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করতে পারবেন। 

১।  ফাইভার -  fiverr.com

fiverr.com

সারাবিশ্বে বর্তমানে যতগুলো অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে এটি। বাংলাদেশের অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সাররাই ফাইভারে কাজ করে।   এখানে আপনি 5 ডলার থেকে শুরু করে অনেক উচ্চমূল্যের প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করতে পারবেন। এই মার্কেটপ্লেস থেকে আপনি ওয়েব ডিজাইন,  ওয়েব ডেভেলপমেন্ট,  লোগো ডিজাইন,  ভয়েস রেকর্ড,  আর্টিকেল রাইটিং,  গ্রাফিক্স ডিজাইন,  ডিজিটাল মার্কেট,  সোশ্যাল মার্কেটিং ইত্যাদি সহ আরও বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে পারবেন।

২।  আপওয়ার্ক- Upwork.com

upowrk.com
 upwork.com বিশ্বের আরেকটি খুবই জনপ্রিয় অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস।  upwork.com প্রথমে ওডেস্ক  নামে কার্যক্রম শুরু করে। 2015 সালে  এই জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস কি আরো একটি জনপ্রিয় ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ইল্যান্সের সাথে একীভূত হয়ে আপওয়ার্কে নামে নতুন করে শুরু করে।  upwork.com আপনি ফিক্সট অথবা ঘন্টা  চুক্তিতে কাজ করতে পারবেন। Upwork.com থেকে টাকা তুলতে হলে আপনার পেপাল,  পেওনিয়ার,  এবং ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা রয়েছে। জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস গুলোতে যে ধরনের কাজ পাওয়া যায় upwork.com সব ধরনের কাজ পাওয়া যায়। 

৩।  ফ্রিল্যান্সার ডটকম - freelancer.com

freelancer.com

Freelancer.com প্রথম সারিতে থাকা অনলাইন জব মার্কেটপ্লেসগুলোর মধ্যে আরো একটি উল্লেখযোগ্য মার্কেটপ্লেস।  এখানেও আপনি ঘণ্টা চুক্তিতে অথবা ফিক্সড প্রাইসের কাজ করতে পারবেন।  এছাড়াও বিভিন্ন কম্পিটিশন এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ও কাজ জিতে নিয়ে টাকা উপার্জন করা যায়। এছাড়াও freelancer.com এ মেম্বারশিপ নেয়ার মাধ্যমে ও কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ানো যায়।  ফ্রিল্যান্সার ডট কম থেকে টাকা উঠানোর জন্য রয়েছে পেপাল,  পেওনিয়ার,  ব্যাংক ট্রান্সফার ইত্যাদি পেমেন্ট গেটওয়ে।

৪। গুরু - Guru.Com

guru.com

 বিশ্বের জনপ্রিয়অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোর মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটপ্লেস হচ্ছে guru.com। অন্যান্য মার্কেটপ্লেসের মতো এখানেও আপনি প্রায় সব ধরনের কাজ পেয়ে যাবেন।  তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কাজের তালিকা বলছি যেমন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট,  গ্রাফিক্স ডিজাইন,  লোগো ডিজাইন,  আর্টিকেল রাইটিং,  ভিডিও এডিটিং,  ডিজিটাল মার্কেটিং ,  সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ইত্যাদি।  অন্যান্য সাইটের মত এটাতেও fixed-price অথবা ঘন্টা ভিত্তিক চুক্তিতে কাজ করা যায়।   টাকা উত্তোলনের জন্য বিশ্বে জনপ্রিয় যতগুলো মাধ্যম রয়েছে সবগুলোই এর মধ্যে প্রচলন রয়েছে।  

৫। টপটল - Toptal.Com

toptal.com
এখানেও প্রচুর পরিমানে অনলাইন জব পাওয়া যায়। অন্যান্য মার্কেটপ্লেসের মত এখানে প্রায় সকল ধরনের ডিমান্ডএবল কাজগুলো পাওয়া যায়। এখান থেকে পেপাল, পেওনিয়ার ও ব্যাংক ট্র্যান্সফার করে আয়ের টাকা উত্তোলন করা যায়।

ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে কি করতে হবে

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার ক্যারিয়ার গঠন করতে চাইলে উপরে উল্লেখিত পাঁচটি উপায় সাইটের যে কোনটিতেই আপনি কাজ করতে পারবেন।  এর জন্য উপরে উল্লেখিত ওয়েবসাইটগুলোতে প্রথমে আপনার একটি প্রোফাইল বা একাউন্ট তৈরী করে নিতে হবে।  প্রোফাইল বা একাউন্ট তৈরী করার পর সেটাকে সুন্দর করে সাজাতে হবে।  অর্থাৎ আপনি কি কি কাজ জানেন,  কি কি আপনার বেশি দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে,  আপনি কত দূর পড়াশোনা করেছেন, , আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল,  আপনার ওয়েবসাইট অ্যাড্রেস,  আপনার ব্যক্তিগত পরিচয় এবং ছবি দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল রেডি করতে হবে। 

এছাড়া আপনি ইতিপূর্বে এই কাজ কখনো করেছেন কিনা।  ক্লায়েন্ট আপনাকে কাজ দিলে আপনি সেটা কিভাবে ডেলিভারি দেন। আপনি একটি কাজ কত তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করতে পারেন।  ইতিপূর্বে যদি কোন কাজ করে থাকেন তাহলে তার রেফারেন্স দিতে পারেন।  বিশেষ করে আপনি পূর্বে কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন কোম্পানির হয়ে যদি ওয়েবসাইট করে তৈরি করে থাকেন ওয়েবসাইটের লিঙ্ক শেয়ার করে দিলে আপনার আরো বেশি সুবিধা হবে। 




কমেন্ট করুন

0 Comments