২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ
২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার ২২তম আসর এবং পুরুষদের আন্তর্জাতিক সংস্থার ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ|এই  এই প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ফিফা এসোসিয়েশনের সদস্য দেশের জাতীয় দল সমূহ| এই ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ 2022 সালে কাতারে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য নির্ধারিত রয়েছে| আরব বিশ্বে এটি হবে ফিফা আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপ এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এটি প্রথম অনুষ্ঠিত হবে| 2002 সালের দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিশ্বকাপ আয়োজন এর পর এটি হবে এশিয়াতে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ| এছাড়া 32 টি দলের এটি সর্বশেষ বিশ্বকাপ আয়োজন| এরপর 2026 বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে 48 টি দল নিয়ে| 2026 বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে উত্তর আমেরিকাতে|  গত আসরের 21 তম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স|

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজক অধিকার প্রাপ্ত হওয়া কাতার হল আয়তনের বিচারে সবচেয়ে ছোট দেশ; এর আগে ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজনকারী সবচেয়ে ছোট দেশ ছিল সুইজারল্যান্ড, ১৯৫৪ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক, যা কাতারের চেয়ে তিনগুণ বড় এবং বর্তমান ৩২ দলের এর পরিবর্তে তখন কেবল ১৬ টি দল নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল।

বিশ্বকাপ অনুষ্ঠানের সময় সীমা

এটিই হবে প্রথম বিশ্বকাপ যা মে, জুন বা জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হবে না; এর পরিবর্তে প্রতিযোগিতাটি নভেম্বরের শেষ দিকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত নির্ধারিত। এটি প্রায় ২৮ দিনের সময়সীমাতে শেষ করা হবে, ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর, যা কাতার জাতীয় দিবসও।কাতারে ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বিশ্ব ফুটবলের উন্মাদনার সবচেয়ে বড় উপলক্ষ্য।

যে কয়টি ভেন্যুতে খেলা অনুষ্ঠিত হবে

স্বাগতিক কাতারের সঙ্গে এ গ্রুপের আরেক দলের ম্যাচ দিয়ে আল-বাইত স্টেডিয়ামে ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর সোমবার শুরু হবে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্ব চলবে ১২ দিন, প্রতিদিন চারটি করে ম্যাচ থাকবে। কাতারজুড়ে আটটি স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচ। ফিফা জানাচ্ছে, এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে যেতে আকাশপথে ভ্রমণের দরকার পড়বে না।

উদ্বোধনী ও ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু

যৌথবিবৃতিতে ফিফা ও কাতারের সুপ্রিম কমিটির আয়োজক সংস্থা জানিয়েছে, উদ্বোধনী ম্যাচের ভেন্যু আল-বাইতে দর্শক ধারণক্ষমতা ৬০ হাজার। আর ফাইনাল হবে ১৮ ডিসেম্বর লুসাইল স্টেডিয়ামে, সেটির ধারণক্ষমতা ৮০ হাজার।

ম্যাচ শুরুর সময়

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো হবে তিন ঘণ্টা বিরতিতে। ভেন্যুগুলোর মধ্যে দূরত্ব আর ম্যাচের মধ্যের বিরতি হিসাব করে বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন দর্শক চাইলে একটি ম্যাচ শেষ করে আরেক ভেন্যুতে অন্য ম্যাচও দেখতে পারবেন! দিনের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে স্থানীয় সময় দুপুর একটায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা)। আর শেষ ম্যাচটি শুরু হবে স্থানীয় সময় রাত ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়)।

প্রতিদিন যতটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্ব থেকে টুর্নামেন্ট যাবে শেষ ষোলোতে, সেখানে প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ থাকবে। শেষ ষোলো শেষে দুদিনের বিরতি। কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচ শেষ হবে দুদিনে, এখানেও দিনে দুটি করে ম্যাচ। কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে দুদিনের বিরতি। সেমিফাইনালে দিনে একটি করে ম্যাচ। ১৪ ডিসেম্বর সেমিফাইনালের পর দুদিনের বিরতি শেষে ১৭ ডিসেম্বর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, তার পরের দিন ফাইনাল।
২০১৯ সালের জুন মাসে এশিয়ান কোয়ালিফায়ারের মধ্য দিয়ে মাঠে গড়িয়েছিল ২০২২ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। 

সম্প্রচারণ অধিকার

  1. অস্ট্রেলিয়া – এসবিএস
  2. ব্রাজিল – রেডে গ্লোবো
  3. কানাডা – সিটিভি, টিএসএন, আরডিএস
  4. ক্যারিবীয় – আন্তর্জাতিক মিডিয়া কনটেন্ট, স্পোর্টসম্যাক্স
  5. ইউরোপ – ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (৩৭টি দেশ)
  6. মধ্যপ্রাচ্য – আল জাজিরা
  7. পর্তুগাল – আরটিপি
  8. সুইডেন – এসভিটি, টিভিফোর 
  9. সুইজারল্যান্ড – এসআরজি এসএসআর 

যেভাবে দলগুলো ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ সুযোগ পাবে

ইউরোপ

মোট ৫৫টি দল নিয়ে শুরু হওয়া ইউরোপিয়ান কোয়ালিফিয়ারে ছিল ১০টি গ্রুপ। ইউরোপ থেকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে মোট ১৩টি দল। কোয়ালিফিয়ারের ১০টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাবে। বাকি ৩টি দল নির্ধারণের জন্য অনুষ্ঠিত হবে প্লেঅফ। এই প্লেঅফে খেলবে ১০টি গ্রুপের গ্রুপ রানার-আপ আর ইউয়েফা নেশন্স লিগের শীর্ষ স্থানীয় ২টি দল যারা কোয়ালিফায়ারে নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন বা রানার-আপ নয়। এই ১২টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে দুই রাউন্ডব্যাপী নকআউট পর্ব।

কনমেবল

১০টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া দক্ষিণ আমেরিকার কোয়ালিফায়ার থেকে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে প্রথম ৪টি দল। ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ জায়গা করে নেওয়ার জন্য ৫ম দলকে লড়তে হবে আন্তর্জাতিক প্লেঅফে।

কনক্যাকাফ

মোট ৩৫টি দেশ নিয়ে তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই অঞ্চলের কোয়ালিফায়ার। প্রথম রাউন্ডে ফিফা র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী এই অঞ্চলের ৬-৩৫ নম্বর দল নিয়ে ৬টি গ্রুপ করা হয়েছিল। প্রতি গ্রুপে ছিল ৫টি দল। প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা পরবর্তী রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়েছিল। এই ৬টি দল রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার পর শীর্ষস্থানীয় ৩টি দল পরের রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়। সেখানে জয়ী তিন দল কানাডা, এল সালভাদোর ও পানামা শেষ রাউন্ডে মুখোমুখি হয় ফিফা র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী এই অঞ্চলের শীর্ষ ৫ দলের (কোস্টারিকা, হন্ডুরাস, জ্যামাইকা, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র)। এই ৮টি দল রাউন্ড রবিন ফরম্যাটে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হবে। শেষ রাউন্ডে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র ৩টি ম্যাচ। মোট ১৪টি ম্যাচ হওয়ার পরে প্রথম তিন দল সরাসরি ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ জায়গা করে নিবে। আর চতুর্থ দলকে খেলতে হবে আন্তর্জাতিক প্লেঅফ।

আফ্রিকা

মোট ৫৪টি দেশ নিয়ে আয়োজিত আফ্রিকান কোয়ালিফায়ার মোট তিন রাউন্ডে বিভক্ত। প্রথম রাউন্ডে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের নিম্নস্থানীয় ২৮টি দল ড্রয়ের পর নিজেদের মধ্যে দুই লেগে মুখোমুখি হয়। জয়ী ১৪টি দল পরের রাউন্ডে বাকি ২৬ দলের সাথে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ড্রয়ের ভিত্তিতে মোট ৪০টি দলকে ৪ দল বিশিষ্ট ১০টি গ্রুপে ভাগ করা হয়। এখন পর্যন্ত প্রতিটি দল ২টি করে ম্যাচ খেলেছে। ১০টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা এর পরের রাউন্ডে ড্রয়ের ভিত্তিতে হেড টু হেড পদ্ধতিতে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার জন্য লড়বে, বিজয়ী ৫টি দল সরাসরি ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাবে। 

এশিয়া

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের নিচের সারির ১২ দল নিয়ে দুই লেগ হেড টু হেড পদ্ধতিতে হয়েছিল প্রথম রাউন্ড যেখান থেকে ৬টি দল পরের রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। জয়ী দলগুলোর মধ্যে ছিল বাংলাদেশও। বাকি ৩৪ দলের সাথে এই ছয় দলকে নিয়ে শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় রাউন্ড যেখানে ৫ দল বিশিষ্ট মোট ৮টি গ্রুপ করা হয়েছিল। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর রানার-আপদের নিয়ে শেষ রাউন্ডে ৬ দল বিশিষ্ট দুটি গ্রুপ করা হয়। শেষ রাউন্ডে প্রতি দল এখন পর্যন্ত খেলেছে দুটি করে ম্যাচ। প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার-আপ সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিবে আর তৃতীয় হওয়া দুই দল নিজেদের মধ্যে দুই লেগের প্লেঅফ খেলবে। সেখানে জয়ী দল এরপর খেলবে আন্তর্জাতিক প্লে-অফ।

ওশেনিয়া

মোট ১১টি দেশ নিয়ে হতে যাওয়া এই অঞ্চলের কোয়ালিফায়ারে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে গঠন করা হবে ২টি গ্রুপ। গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন আর রানার-আপ পরের রাউন্ডে দুই লেগ পদ্ধতিতে খেলবে ফাইনাল ও সেমিফাইনাল। বিজয়ী দলকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে খেলতে হবে আন্তর্জাতিক প্লেঅফ। তবে এই অঞ্চলের কোয়ালিফায়ারের কোনও ম্যাচ এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। কোনও সুচি ঘোষণা করা না হলেও ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে এই কোয়ালিফায়ার মাঠে গড়ানোর কথা।। 

 


Reactions

Post a Comment

0 Comments