শেখ হাসিনার জীবনী

শেখ হাসিনার জীবনী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা, জাতির জনক ও বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। তার মাতার নাম বেগম ফজিলাতুন্নেছা।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতিও তিনি। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। 

প্রারম্ভিক জীবন | শেখ হাসিনার বয়স কত | শেখ হাসিনার জন্মদিন

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার মাতার নাম বেগম ফজিলাতুননেসা। তিনি টুঙ্গিপাড়ায় বাল্যশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি ঢাকায় পরিবারের সাথে মোগলটুলির রজনীবোস লেনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে ওঠেন। ১৯৫৬ সালে তিনি টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬৫ সালে তিনি আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৭ সালে গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। বিয়ের কারণে অনার্স পাঠ স্থগিত রাখতে হয়। পরে ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালের ৯ মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাদের সংসারে সজীব ওয়াজেদ জয় (পুত্র) ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (কন্যা) নামে দুই সন্তান রয়েছেন।

রাজনৈতিক পদযাত্রা

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শেখ হাসিনা। স্কুলজীবনেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অংশগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। ১৯৬২-তে স্কুলের ছাত্রী হয়েও আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। আজিমপুর গার্লস স্কুল থেকে তার নেতৃত্বে মিছিল গিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্রসংসদের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি এই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন। । শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সব গণ-আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। 

 ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয়, ওই সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

পরের ৬ বছর লন্ডন ও দিল্লিতে তাদের জীবন কাটে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। পাঁচ বছরের মাথায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

১৯৮১ সালে থেকে টানা প্রায় ৩৮ বছর ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মোবাইল নাম্বার

১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনা তিনটি সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

এরশাদের রাষ্ট্রপতিত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন |  শেখ হাসিনার জীবনী

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনাকে তার আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দীর্ঘ ছয় বছর পর যখন বাংলার মাটিতে পা দেন। লাখ লাখ মানুষ তেজগাঁও বিমানবন্দরে সমবেত হয়ে তাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানায়। ১৯৮১ সালের ১২ জুন শেখ হাসিনার কাছে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি হস্তান্তর করা হয়। ১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদের ক্ষমতায় আরোহনকে অবৈধ ঘোষণা করে এরশাদ-বিরোধী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন শেখ হাসিনা। ১৯৮৩ সালে তিনি ১৫ দলের একটি জোট গঠন করেন। তার নেতৃত্বে দেশজুড়ে সামরিক শাসক এরশাদ-বিরোধী দুর্বার আন্দোলন গড়ে ওঠায় ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের ৩১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। চোখ বেঁধে তাকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়।

১৯৯১-এর নির্বাচন

১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সংসদ উপনির্বাচনের সময় সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তিনি সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন। 

১৯৯১-১৯৯৬ | শেখ হাসিনার জীবনী

১৯৯২ সালের ৭ মার্চ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০০ সংসদ সদস্য শহিদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গোলাম আযমকে গণ-আদালতে বিচারের দাবির সঙ্গে একাত্ম ঘোষণা করেন। ১৯৯২ সালের ১৬ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল করে গোলাম আযমের বিচার করার প্রস্তাব দেন শেখ হাসিনা। ১৯৯২ সালের ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলনে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

১৯৯২ সালে তিনি গৌতম বুদ্ধের কর্ম ও চিন্তাধারার ওপর অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সেমিনার উপলক্ষে নেপাল এবং ওই একই বছর পাকিস্তানের করাচিতে অনুষ্ঠিত সার্ক দেশগুলোর পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দের সভায় যোগদান করেন। ১৯৯৩ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার সভায় গুলি ও বোমা হামলায় ৫০ জন আহত হন।

১৯৯৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করেন সম্মানিত অতিথি হিসেবে। একই বছর টোকিওতে অনুষ্ঠিত সোশিয়ালিস্ট ইন্টারন্যাশনালের সেমিনারে যোগদান করেন তিনি। ১৯৯৪ সালে তিনি ‘ইস্টার্ন ভিশন ফেয়ার’র ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

১৯৯৪ সালের ১৪ আগস্ট স্বাধীনতার সূতিকাগার জাতির পিতার ধানমন্ডিস্থ ৩২ নম্বর সড়কের ঐতিহাসিক বাসভবনটি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তর করে তা দেশবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার ট্রেন অভিযাত্রায় ঈশ্বরদী ও নাটোরে ব্যাপক সন্ত্রাস, গুলি, বোমা হামলা ও তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশসহ আহত হন শতাধিক। ১৯৯৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা মিন্টো রোডের বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবন ত্যাগ করেন। ১৯৯৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ থেকে আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি বিরোধী দলের সদস্যরা একযোগে পদত্যাগ করেন। তার নেতৃত্বে খালেদা সরকারের ভোট কারচুপি ও জনগণের ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে তীব্র আন্দোলন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির একদলীয় নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিয়ে খালেদা সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়। ১৯৯৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে ভাষণ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম মেয়াদকাল, ১৯৯৬-২০০১ |  শেখ হাসিনার জীবনী

১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথমবারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯৬-২০০১ পাঁচ বছর ছিল স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সময়। এ সময়কালের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের সাথে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা, ১৯৯৯ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করাসহ অনেক খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়। এ সময় দ্রব্যমূল্য ছিল ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। কৃষকের জন্য ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ সরবরাহ এবং সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের ফলে দেশ প্রথমবারের মতো খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। প্রায় ২৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। প্রথম মুঠোফোন (মোবাইল) প্রযুক্তির বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং উল্লেখযোগ্য হারে কর সুবিধা প্রদান করা হয়। বেসরকারি খাতে টেলিভিশন চ্যানেল অপারেট করার অনুমতি প্রদান করে আকাশ সংস্কৃতিকে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। পিতার সাথে মাতার নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়। কম্পিউটার আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাসকরণের দ্বারা সাধারণের জন্য তথ্যপ্রযুুক্তির সুযোগ অবারিত করে দেওয়া হয়।

বিরোধীদলীয় সময়কাল, ২০০১-২০০৮

২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আবারও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন। ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনী কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা।

২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিলভার জুবলি সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘সিভিল সোসাইটি অ্যান্ড গুড গভরন্যান্স : দি জার্নালিস্ট রুল’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা।

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তাকে এবং তার অনুগামীদের হত্যার উদ্দেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবাণীতে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও নারী নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। কানের পর্দা ফেটে গিয়ে আহত হন শেখ হাসিনা।

২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর নিউইয়র্কের লার্গোডিয়া কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সার্বজনীন গণসমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। ২০০৪ সালের ২৮ অক্টোবর নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে দি কাউন্সিল অব ওম্যান ওয়ার্ল্ড লিডার্স আয়োজিত ‘শেপিং দ্য ফিউচার গ্লোবাল পলিসি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। ২০০৫ সালের ৪ এপ্রিল ম্যানিলায় অ্যাসোসিয়েশন অব এশিয়ান পার্লামেন্টস ফর পিস আয়োজিত সিনিয়র অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সভায় যোগ দেন।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন । শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফরে গেলে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। শেখ হাসিনা সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রত্যয় ঘোষণা করলে ভীত-সন্ত্রস্ত সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। ৭ মে তারিখে তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। জরুরি আইনের বাধা উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসে তাকে স্বাগত জানায়। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ রাতে যৌথবাহিনীর একটি দল কোনো ধরনের সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই দুদফায় জননেত্রী শেখ হাসিনার সুধা সদনস্থ বাসভবনে প্রবেশ করে। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ১২ জুন চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র গমন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। চিকিৎসা শেষে স্বদেশে ফিরে আসেন তিনি। ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর শেরাটনের উইন্টার গার্ডেনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

২০০৪ গুপ্তহত্যা চেষ্টা |  শেখ হাসিনার জীবনী

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তাঁকে হত্যার উদ্দেশে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়। ওই দিন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এক জনসভায় বক্তব্য শেষ করার পরপরই  শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে এক ডজনেরও বেশি আর্জেস গ্রেনেড ছোড়া হয়। লোমহর্ষক সেই হামলায় শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পেলেও আইভি রহমানসহ তাঁর দলের ২২ নেতা-কর্মী নিহত হন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন। শেখ হাসিনা নিজেও কানে আঘাত পান। 

তত্বাবধায়ক সরকার, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ও গ্রেফতার, অক্টোবর ২০০৬-২০০৮ |  শেখ হাসিনার জীবনী

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো গ্রেফতার হন ২০০৭ সালে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সকাল ৭:৩১-এ যৌথ বাহিনী শেখ হাসিনাকে তার বাসভবন "সুধা সদন" থেকে গ্রেফতার করে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে আদালত তার জামিন আবেদন না-মঞ্জুর করে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে সাব-জেল হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে অন্তরীণ রাখা হয়। গ্রেফতারের পূর্বে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা জিল্লুর রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে যান। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুইটি অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। একটি হল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে রাজনৈতিক সংঘর্ষের জন্য হত্যা মামলা এবং অন্যটি হল প্রায় তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলা।[১৬] এর মাঝে একটির বাদী ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে মামলাটি তুলে নেন। জেল থেকে মুক্তিলাভের পরে তিনি চিকিৎসার্থে কয়েক মাস বিদেশে অবস্থান করেন। এরপর দেশে ফিরে দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদকাল, ২০০৯-২০১৪

2009 সাল থেকে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেন |

তৃতীয় মেয়াদকাল (২০১৪-২০১৯)

এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার বিজয়ী হলে ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বার শপথগ্রহণ করেন তিনি।

চতুর্থ মেয়াদকাল (২০১৯-বর্তমান)

২০১৯ সালে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন নজির স্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

সমালোচনা

শেখ হাসিনা সরকারের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি বিরোধী দলসহ সুশীল সমাজের অনাস্থা রয়েছে |  তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচনব্যবস্থা নির্বাচনে কারচুপির যথেষ্ট অভিযোগ রয়েছে

গ্রন্থ

‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘ওরা টোকাই কেন?’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, ‘দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’, ‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’, ‘সাদা কালো, সবুজ মাঠ পেরিয়ে’, ‘Miles to Go, The Quest for Vision-2021’ প্রভৃতি। 

Reactions

Post a Comment

0 Comments